মা ও শিশু

অন্তঃসত্ত্বাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ, গর্ভের সন্তানের ওপর করোনার প্রভাব অজানা

গবেষকদের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত, কোভিড ১৯-এর সরাসরি প্রভাব শেষ ট্রাইমেস্টারে থাকা গর্ভস্থ শিশুর উপরে পড়ে না। গর্ভের ৬ মাসের পর থেকে বাচ্চা জন্মের আগ পর্যন্ত সময়কে থার্ড বা শেষ ট্রাইমিস্টার বলে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীনের উহান প্রদেশের তংজি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক সমীক্ষা হয়। সাধারণ করোনা সংক্রমিতদের মতো উপসর্গ নিয়ে সেখানে ভর্তি সাত জন কোভিড-১৯ পজিটিভ অন্তঃসত্ত্বার উপরে চীন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথ ভাবে সমীক্ষাটি করে। সিজারিয়ান পদ্ধতিতে জন্মের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করে দেখা যায়, শুধু এক সদ্যোজাত শিশুর শরীরে ওই ভাইরাস রয়েছে। একাধিক জীবনদায়ী ব্যবস্থার সাহায্যে সংক্রমণ কাটিয়ে এখন সুস্থ সেই মায়েরা ও শিশু।

সমীক্ষায় প্রকাশ, শেষ ট্রাইমেস্টারে সংক্রমিত হয়েছিলেন ওই সাত জন প্রসুতি। তবে প্লাসেন্টার (গর্ভফুলটি জরায়ুর নিচের দিকে জরায়ুমুখে লেগে থাকা) মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত মায়ের থেকে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সংক্রমিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকেরা। সে ক্ষেত্রে প্রথম ট্রাইমেস্টারে (প্রথম তিন মাস) বা দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে (৪-৬ মাস) অন্তঃসত্ত্বা সংক্রমিত হলে ভ্রূণে কী প্রভাব পড়বে, গবেষণাসাপেক্ষ সেটি। তাই ওষুধ, আইভিএফ-সহ অন্যান্য বিকল্প পদ্ধতির সাহায্যে গর্ভধারণের প্রক্রিয়া বিশ্ব জুড়ে বন্ধ রাখার নির্দেশিকা জারি করেছে ‘ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি’ এবং ‘আমেরিকান সোসাইটি অব রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন’।

চিকিৎসকদেরও মত, যেহেতু প্রথম এবং দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে প্রসূতি করোনা আক্রান্ত হলে ভ্রূণে কী প্রভাব পড়বে তা অজানা, তাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেও এখন গর্ভধারণ না করাই বাঞ্ছনীয়। তবে যারা ইতোমধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা, তাদের সংক্রমণ এড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আইসিএমআর-এর দেয়া সাধারণ নির্দেশগুলো মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

সংক্রমণ এড়াতে যে পরামর্শগুলো দেয়া হয়েছে

• ওষুধ ও বিকল্প পদ্ধতির সাহায্যে গর্ভধারণের যাবতীয় প্রক্রিয়া বিশ্ব জুড়ে আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ। এমনকি, স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেও এ সময়ে অন্তঃসত্ত্বা না হওয়ার পরামর্শ।

অন্তঃসত্ত্বাদের প্রতি পরামর্শ

• বাড়িতে থাকুন এবং দূরত্ব বজায় রাখুন।

• বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোবেন। মুখে-চোখে হাত দেবেন না। অসুস্থ ব্যক্তির থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে ঘরেও মাস্ক পরুন।

• তোয়ালে, সাবান, বাসন-সহ নিজের ব্যবহৃত জিনিস আলাদা রাখুন।

• ঘরের দরজা-জানলা খুলে রাখুন।

• জ্বর, সর্দি, কাশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সম্প্রতি ভারতেও দুই অন্তসত্ত্বার দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এনিয়ে ভারতের চিকিৎসকরাও চিন্তিত। উপরের নির্দেশিকা মেনে অন্তঃসত্ত্বাদের স্বাভাবিক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্ত্রী-রোগ চিকিৎসক অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায়। তার মতে, এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ করতে সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। চিকিৎসকের সঙ্গে ফোন-অনলাইনে যোগাযোগ রাখা। তাদের দেয়া প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের রক্ত পরীক্ষা ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করা যাবে।

করোনায় সংক্রমিত মা সন্তানকে কিভাবে দুধ খাওয়াবেন ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমিত হলেও দুধ খাওয়াবেন। তবে সরাসরি না। হাত এবং স্তন সাবান দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে মাস্ক, গ্লাভস এবং পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে পাম্প করে স্তন থেকে দুধ বের করে নিয়ে তবেই খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া যাবতীয় নির্দেশিকা মেনে অন্তঃসত্ত্বাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হবে। সূত্র: আনন্দবাজার

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close