সম্পাদকীয়

১৭ মার্চ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, যিনি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এ বছর। সে উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা উৎসব-অনুষ্ঠান ও কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষ উদযাপনের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকার মুজিববর্ষ উদযাপন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কমিটিও গঠন করেছে। বহুল প্রতীক্ষিত সেই মুজিববর্ষের দিন গণনাও চলে এসেছে শেষ পর্যায়ে। আর কয়েক দিন পরেই ১৭ মার্চ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস। মূলত সে দিন থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে শুরু হবে মুজিববর্ষ উদযাপন। যা চলবে আগামী বছরের ২৬ মার্চ পর্যন্ত।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এমনি এক সময়ে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে একের পর এক সংক্রমিত হচ্ছে বিভিন্ন দেশের অসংখ্য নাগরিক। বৈশ্বিক বিভিন্ন মিডিয়ার খবর থেকে জানা যায়, এ পর্যন্ত বিশ্বের আশিটিরও অধিক রাষ্ট্র করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্ত দেশগুলোতে রোগীর সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে মারা গিয়েছে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি সংক্রমিত ব্যক্তি।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের সরকার। এসব দেশগুলোতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে গণসমাবেশসহ যে কোন প্রকারের জামায়েত। ইতালিসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে করোনার সংক্রমণ রুখতে ফুটবল মাঠগুলোতে দর্শকদের হলিউড প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই করোনাভাইরাসের উৎপত্তি দেশ, চীন ইতোমধ্যে তার নাগরিকদের ঘরের বাইরে না বের হতে বলেছে, সংক্রমণ ঠেকাতে পুড়িয়ে ফেলেছে লাখ লাখ কাগজে টাকার নোট। অন্যদিকে করোনার আতঙ্কে সৌদি সরকার স্কুলের ক্লাস নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ শুরু থেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকিতে ছিল। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বরাবরই দাবি করে আসছিল যে, বাংলাদেশে কোন করোনা সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি। অবশেষে গত ৮ মার্চ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা সংস্থার পক্ষ হতে এক সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়ে। সংস্থাটির দেয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত তিনজন রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে দু’জনই ইতালিতে থেকে এসেছেন। বাংলাদেশ করোনার সংক্রমণ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এরকম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসবাহিত রোগের আক্রমণ যে বাংলাদেশের জনগণের আর্থসামাজিক জীবনে একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে চলেছে তা বলাইবাহুল্য।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশী অতিথিকে। এরকম একটি পরিস্থিতিতে তারা বাংলাদেশ সফর করবে কিনা- সে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি তাদের সফর এদেশের মানুষের গণস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলার সম্ভাবনাও থেকে যাচ্ছে। অপরদিকে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে যে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হবে তা সহজেই বুঝা যাচ্ছে। যেহেতু এ ধরনের সমাবেশ করোনাভাইরাস ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম তাই এ ধরনের জনসমাগম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। যে কারণে সরকার কর্তৃক মুজিবশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে পরিকল্পিত উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন সীমিত ও সংক্ষেপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা এখনও আতঙ্কজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে একে মোকাবেলায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি সবরকমের প্রস্তুতি গ্রহণের এখনই সময়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আক্রান্ত রোগীদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারকে জনস্বাস্থ্য ও সার্বিক জনকল্যাণের কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানসূচী সংক্ষিপ্ত করতে হবে। যে কোন বড় ধরনের জনসমাবেশ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বিদেশী অতিথিদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার বিষয়টিও স্থগিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতাই পারে এরকম একটি মরণব্যাধির বিস্তার রোধ করতে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close