স্কাউট

কেন করব? স্কাউটিং

মানবজীবনের একমাত্র ব্রত হল সেবা। মানবহৃদয়ের সব তৃপ্তি, সুখ ও সাফল্য সেবার মধ্যেই নিহিত। ‘সেবা’র মূলমন্ত্র নিয়ে ১৯০৭ সালে ইংল্যান্ডের ব্রাউন সি দ্বীপে রবার্ট স্টিফেনশন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েলের হাতধরে গড়ে উঠেছিল স্কাউট আন্দোলন।

মাত্র ২০ জন কিশোর নিয়ে প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিশ্বের ১৬৯টি দেশে স্বীকৃতভাবে ৪০ মিলিয়নের অধিক স্কাউটার রয়েছে, যারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে নিরলসভাবে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত।

আনন্দের বিষয় হল, এক শতাব্দী পরও বিশ্বে স্কাউটদের সংখ্যা চক্রবৃদ্ধিহারে বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬ লক্ষাধিক স্কাউট রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ২১ লাখ স্কাউট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন এবং সার্বিক দিক-নির্দেশনা ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। কেন এই অগ্রযাত্রা আর কেনই বা শিশু-কিশোর-যুবকদের এত আগ্রহ স্কাউট আন্দোলনের প্রতি- আসুন, জেনে নেয়া যাক।

স্কাউটিং এমন একটি আন্তর্জাতিক, শিক্ষামূলক ও অরাজনৈতিক আন্দোলন- যার মাধ্যমে শিশু, কিশোর ও যুবকদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, বুদ্ধিভিত্তিক ও আধ্যাত্মিকভাবে যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়।

এটি বিশ্বের একমাত্র সংগঠন, যেখানে যোগদান করতে হলে আত্মশুদ্ধি পালন করতে হয়। আগ্রহীদের অতীত জীবনের সব বদঅভ্যাস পরিত্যাগ করার শপথ নিতে হয়। মদ, জুয়া, যৌনতা, শঠতা ও নাস্তিকতা নামের পাঁচটি শিলাখণ্ড থেকে জীবনতরীকে রক্ষা করতে হয়। স্কাউট-প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হয়। স্কাউট-প্রতিজ্ঞাটি হল-

আমি আমার আত্মমর্যাদার ওপর নির্ভর করে প্রতিজ্ঞা করছি যে, আল্লাহ ও আমার দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করতে, সর্বদা ওপরকে সাহায্য করতে ও স্কাউট আইন মেনে চলতে আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব।”

স্কাউটের ৭টি আইন রয়েছে, যেগুলো সর্বদা মেনে চলতে হয়। এগুলো হল-

১. স্কাউট আত্মমর্যাদায় বিশ্বাসী

২. স্কাউট সবার বন্ধু

৩. স্কাউট বিনয়ী ও অনুগত

৪. স্কাউট জীবের প্রতি সদয়

৫. স্কাউট সদা প্রফুল্ল

৬. স্কাউট মিতব্যয়ী

৭. স্কাউট চিন্তা, কথা ও কাজে নির্মল।

স্কাউটের ৩টি মূলনীতি রয়েছে, যেগুলো সদা-সর্বদা অনুসরণ করতে হয়। এগুলো হল-

১. সৃষ্টিকর্তার প্রতি কর্তব্য

২. নিজের প্রতি কর্তব্য এবং

৩. অপরের প্রতি কর্তব্য।

উপরোক্ত প্রতিজ্ঞা, আইন ও মূলনীতি সঠিকভাবে প্রতিপালনের মাধ্যমে স্কাউটিংয়ের মূলমন্ত্র- সেবা প্রদানই হল স্কাউটিংয়ের উদ্দেশ্য। এরপরও যদি জিজ্ঞেস করেন, স্কাউটিং কেন করব- অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলব, কে বলেছে আপনাকে করতে! স্কাউটিং সেই করবে, যার সমাজ ও রাষ্ট্রের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতা থাকবে; দেশকে ভালোবাসবে, দেশের মানুষকে ভালোভাসবে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close